অধ্যক্ষ

মোঃ মাছুদ রানা

অধ্যক্ষের বাণী

ছায়া সুনিবিঢ় বিশাল প্রাঙ্গন, ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত শিক্ষা কর্মসূচী নিয়ে একবিংশ শতাব্দির সন্ধিক্ষনে সিরাজগঞ্জ জেলার সিয়ালকোল মৌজায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মেমোরিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ। ১৯৮৫ ইং সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয় এবং নব উদ্যমে যাত্রা শুরু করে।

প্রতিষ্ঠানটিতে বিজ্ঞান , মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু আছে। আমাদের স্বপ্ন অত্র প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা , যার মধ্য থেকে বেরিয়ে আসবে সৎ, নিষ্ঠাবান, দায়িত্বপূর্ণ , সু-শৃঙ্খল এবং কর্ম জীবনের উপযোগী জ্ঞান সমৃদ্ধ ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ। সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের অংশ গ্রহণ, দেশাত্ববোধের চেতনা সৃষ্টি ও জ্ঞানের বিশাল সুমুদ্রগর্ভে নিজেদের অবগাহনের চেতনায় শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে আমরা পরিচালনা করছি নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমসহ নানাবিধ সহশিক্ষা কার্যক্রম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি পৃথিবীকে ক্রমশ সংক্ষিপ্ত ও সহজলভ্য করে তুলছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাদান-গ্রহণ পদ্ধতিতেও। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্মুখে জ্ঞানের অসীম দুয়ার যেমন উম্মোচিত হয়েছে, তেমনি সেই জ্ঞান রাজ্যে বিচরণের চ্যালেঞ্জ সক্রিয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার জানতে হবে, প্রযুক্তির সাথে নিজেকে অভিযোজিত করতে হবে।এসব ছাত্র/ছাত্রী কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যদি তাদের পরিবার , সমাজ, দেশ ,জাতি তথাপি সর্বপরি মানুষের কল্যাণে কিছু করতে পারে তবেই সার্থক হবে আমাদের সকল আয়োজন ও প্রয়াস। তার জন্য চাই শিক্ষা জীবনে ছাত্র ছাত্রীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিরলস সাধনা । এজন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ও রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আমি বিশ্বাস করি,এ লক্ষ অর্জনে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুদক্ষ অধ্যাপকমন্ডলী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে রয়েছে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার সুস্থ্য মানসিকতা। এ শুভ উদ্যোগে,মেধা ও শ্রমের সম্মিলনে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অভিযাত্রা শীর্ষগামী হবে। এই লক্ষে ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবকবৃন্দ শিক্ষানুরাগী, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা সচেতন জনগোষ্ঠির ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করি।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ গুলিতে এ বিষয়ে শিক্ষা দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠচ্ছে। এ জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করার জন্য প্রয়োজন আইসিটি শিক্ষার মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের মানুষের জীবন ব্যবস্থা আমুল বদলে দেওয়ার পাশাপাশি বদলে দিয়েছে আমাদের প্রচলিত ধ্যানধারনাকেও। যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছে ইন্টারনেট। পৃথিবী আজ এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে প্রতিটি সচেতন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা অপরীহার্য। পৃথিবীব্যাপী মিলিয়ন মিলিয়ন ওয়েবসাইট বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের ভার্চুয়াল মুখপ্রাত্র অফিস হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান সময়ে একটি ওয়েবসাইটের গুরুত্ব কতটা তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করাটা কঠিন। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নাই সেসব প্রতিষ্ঠানকে আজ আর স্মার্ট প্রতিষ্ঠান বলা হচ্ছে না। ওয়েবসাইট হচ্ছে এমন একটি প্রচার মাধ্যম ও তথ্য বহুল সাইট যে সাইটে যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অত্যান্ত স্বপ্ল সময়ে অল্প খরচে বেশী সংখ্যক মানুষের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত সকল তথ্য এবং বিবরণ তুলে ধরতে পারেন। একটি মানসম্মত ওয়েবসাইট যেকোন অফিসিয়াল মুখপাত্র হিসাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। রাত হোক বা দিন হোক ছুটি বা হরতাল যেকোন সময়ে আপনার ওয়েবসাইট সবসময় সবার জন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে উন্মুক্ত রাখে। সরকারী বা বেসরকারী যে কোন প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ঠ উর্ধতন কর্মকর্তা যেকোন সময় ওয়েবসাইট ভিজিট করে অফিসে বসে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে প্রতিষ্ঠানকে কাঙ্খিত উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে সেবার মান ভাল করার পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠানকে যাবতীয় তথ্য সবার সামনে সুন্দর ভাবে উপস্থিত করতে হবে। সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার অন্যতম গুরুত্ব পূর্ন মাধ্যম হলো ওয়েবসাইট। এছাড়াও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার মান উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠান কোন অংশে পিছিয়ে নেই। এ কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটি ওয়েব সাইট উন্মুক্ত করা হল। এই ওয়েব সাইট থেকে সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাবে এবং যাবতীয় তথ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অবিভাবকদের কাছে দ্রুত পৌছে দেয়া সম্ভব হবে।আশা করছি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডাটাবেজ তৈরি করে সকল তথ্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এছাড়াও এর মধ্যদিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরাই শুধু নয় সমগ্র দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সামাজিকরণ সম্ভব হবে। আমি সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অবিভাবক, সুধিমহল সকলকে ওয়েবসাইট থেকে সেবা গ্রহণে আমন্ত্রণ জানাই। যাদের নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনায় এ ওয়েব সাইটটি বাস্তবায়ন হলো, তাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমার বিশ্বাস ওয়েব সাইটটি ব্যবহার করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকসহ সকলেই উপকৃত হবেন। সংক্ষিপ্ত তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটটির যাত্রা শুরু হল এবং এটিকে তথ্য সমৃদ্ধ করার জন্য এলাকাবাসীসহ সর্ব সাধারণের নিকট থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছি ।